পাতা

জেনারেল ম্যানেজারের বাণী

 “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি সুদৃঢ় সফল সংযোজন। ১৯৮৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলার পল্লী এলাকার অবহেলিত জনগোষ্টির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যাত্রা শুরু করে। সমিতি গঠিত হওয়ার পর ডিসেম্বর/২০১৮ পর্যন্ত ৬৮৩০.৫৯ কিঃমিঃ লাইন নির্মাণ করে ৯০০ টি গ্রাম বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে ৪৩৭৮৫৯ জন বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী মার্চ/১৯ সালের মধ্যে মিরপুর উপজেলা এবং জুন/১৯ সালের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলা বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলার শত ভাগ বাড়ী বিদ্যুৎ সুবিধা পৌছে দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ দ্রত গতিতে এগিয়ে চলছে। যাহার ফলে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ২২০ কিঃ মিঃ লাইন নির্মানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহ ভেড়ামারা, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পবিসে বর্তমানে ০৪টি চলমান প্রকল্পের ০৬টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম/স্পটে ৩২টি চুক্তির বিপরীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লাইন নির্মাণ ও লাইন আপগ্রেডেশন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে আরইই-কেডিপি-২, ১.৫ এমসিসিপি, টজওউঝ, উঘঊ(ড) ০৪ টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৯৯ কিলোমিটার লাইন নির্মান/আপগ্রেডেশন এর কাজ চলমান আছে এবং ১.৫ এমসিসিপি প্রকল্পের ০২টি উপকেন্দ্র নির্মানের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।


আপনারা নিশ্চয় জানেন যে, বিদ্যুৎ বিলের অর্থ সমিতির একমাত্র রাজস্ব আয়ের উৎস। সমিতির উত্তরোত্তর উন্নয়নের কর্মধারাকে সচল রাখা এবং সমিতিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার স্বার্থে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা গ্রাহক সদস্যদের নৈতিক দায়িত্ব। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিড়ম্বনা এড়াতে গ্রাহক সদস্যদের সুবিধার্থে জেলার সকল ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র হতে অন-লাইনে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তাছাড়া সমিতির বিভিন্ন্ এলাকায় টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ  এর নির্ধারিত রিটেইলার কর্তৃক এসএমএস এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিলের অর্থ সরকারী পাওনা। তাই প্রতিমাসে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সমিতির আর্থিক কাঠামোকে মজবুত করুন এবং সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ অনাকাংখিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকুন ।

সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ,

দেশের আর্থ-সামাজিক  উন্নয়ন অগ্রগতি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে চলেছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে  সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। সরকারের একান্ত প্রচেষ্টায় বিদ্যুতের উৎপাদন ২০,৭৭৫ (বিশ হাজার সাতশত পঁচাত্তর) মেঃওঃ অতিক্রম করেছে। অত্র সমিতি আর্থিকভাবে লসে থেকেও চলতি অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে গ্রাহকদের লোডশেডিং কমানোর জন্য এবং সেবা বৃদ্ধির জন্য ২টি গ্রীডের ক্ষমতা ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করেছে। লাইনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের জন্য অনেক সময় লাইন বন্ধ রাখতে হয় যা একান্তই অনিচ্ছাকৃত। আশা করি, সম্মানিত গ্রাহক সদস্যগণ আমাদের অনিচ্ছাকৃত অসুবিধা ধৈর্য্যসহকারে মেনে নিবেন।

সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ,

সমিতির বিতরন লাইনে স্থাপিত  ট্রান্সফরমার ও তারসহ স্থাপিত অন্যান্য মালামাল চুরি সমিতির অগ্রযাত্রাকে দারুণভাবে ব্যাহত করছে। ট্রান্সফরমার ও মালামাল চুরির ফলে সমিতির গ্রাহক ও সমিতি মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং গ্রাহক সেবা বিঘিœত হচ্ছে। তাই বৈদ্যুতিক সরমঞ্জাদি ও ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে তালা-শিকল স্থাপন এবং গোষ্টি ভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণসহ সেচ মৌসুম শেষে নির্ধারিত ফি জমা প্রদান পূর্বক অত্র কার্যালয়ের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার খুলে নিজ হেফাজতে  রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি সকল গ্রাহক সদস্যগনকে সচেতনার সহিত সমিতির সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে একাতœতা ঘোষনা করে সহযোগীতা প্রদানপূর্বক সমিতির সম্পদের নিরাপত্তা বিধানসহ সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষন এবং চুরি প্রতিরোধে অংশীদার হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।  

পরিশেষে, সমিতির কর্মকান্ডে সহযোগীতা করার জন্য  কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আল্লাহ্ হাফেজ                                                                                                                 
 

(মোঃ হারুন-অর-রশিদ)
জেনারেল ম্যানেজার।

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter